বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ - বুখারি

আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ- বুখারি

অধ্যাপক মফিজুর রহমান


তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নুরে মুহাম্মাদি ও কিতাবে মুবিন এসে গেছে।( সূরা মায়েদা  : ১৫)
আল কুরআন, হাদিসে রাসূল, সাহাবীদের আচার ও সিরাতকারদের বিরচিত বিশুদ্ধ সিরাতগ্রন্হগুলোই সিরাতুন্নাবী সা.- এর উৎস। 


রাসূল সা. এর নাম ও পরিচয় :-


রাসূল সা. তার নিজের নাম ও পরিচয় সম্পর্কে নিজেই বর্ননা করেন। জাবির রা. হতে বর্ণিত নবী সা. বলেন তোমাদের যেমন নাম আছে আমারও নাম আছে আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি মাহি( অবিশ্বাস দুরকারী), আমি কুফর মেটাতে এসেছি। ( বুখারি,  তিরমিজি) আমি হাশের জমায়েতকারী, হাশরের মাঠে মানবজাতি আমার কদমে জমায়েত হবে (তিরমিজি)  আমি আকেব আমার পরে আর নবী নেই। ( তিরমিজি)  হযরত হুযায়ফা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন একবার মদিনার রাস্তায় রাসুল সা.- এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়, তিনি আমাকে বলেন -

১/  আমি মুহাম্মাদ, ( আমার নাম মুহাম্মাদ _ প্রশংসিত, সকল    যুগে, সব সময়ে,  সব বিষয়ে)

২/  আমি আহমাদ, ( আমার আসমানী নাম আহমাদ- প্রশংসাকারী, আল্লাহ তায়ালা আমায় তাওফিক দিয়েছেন, আল্লাহর বন্দেগি ও প্রশংসাকারী হিসেবে আমি শ্রেষ্ঠতম)

৩/ আমি রহমতের নবী, ( সকল সৃষ্টির জন্য আল্লাহর দয়া হিসেবে শুধু আমাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।  আমার বিষয়ে সকল সৃষ্টিকে আল্লাহ ওহি করেছেন। 

৪/ আমি তাওবার নবী,( একমাএ রাসূল যার থেকে ভুলক্রমেও
কোনো গুনাহ হয়নি। আল্লাহ বলেছেন,  মুহাম্মাদের সামনে ও পিছনে কোনো গুনাহ  নেই তারপরও দিনে ৭০ বার গুনাহের মাফ চান। বান্দার মাফ চাওয়া একটি ইবাদাত।) 

৫/ আমি হাশের, ( আমার কদমে মানবমন্ডলী জমায়েত হবে।
কিয়ামতের কঠিন দিনে পিপাসার্ত ঘর্মাক্ত ক্ষধার্ত মানবন্ডলীর বেদনা হতে মুক্তির জন্য আল্লাহ আমাকে বলবেন ও আমার সুপারিশ গ্রহণ করবেন।)

৬/ আমি নাবিয়্যুল মালাহিম, ( আমি যুদ্ধের পয়গম্বর,  আমার মত এতো লড়াই কোনো নবীর জীবনে আসেনি, ইতিহাস বলে ২৩টি যুদ্ধে রাসুল সা. সেনাপতি ছিলেন,  ৮৩ টি যুদ্ধে তিনি সৈন্য পাঠিয়েছেন।) 

আমি আহমাদ বেশি প্রশংসাকারী:-

স্মরণ করো মারইয়ামের পুত্র ঈসা তাদের বললো, হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল, আমি তাওরাতের সত্যতা প্রমাণকারী আমি তোমাদেরকে আমার পরে একজন জগদ্বিখ্যাত রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি।  তার নকম আহমাদ।( সূরা সফ:৬) 
আহমাদ অর্থ প্রশংসাকারী, আকাশে জগতে এটাই তাঁর নাম- মুহাম্মদ  ও আহমাদ। যিনি সর্বদা আল্লাহর প্রশংসায় রত।যার প্রতিটি বুলি, চাহনির পলক, চলার প্রতিটি পদক্ষেপ, সময়ের প্রতিটি ক্ষণ আল্লাহর বন্দেগি ও প্রশংসায় ব্যয় হয়েছে। 

হযরত আলী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে আমাকে সাতটি নামে অভিহিত করেছেন- 

১/ মুহাম্মাদ : অর্থ- প্রশংসিত। না, মুহাম্মাদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নয়।( সূরা আলে ইমরান:১৪৪)

২/ আহমাদ : অর্থ- বেশি  প্রশংসাকারী। ঈসা ইবনে মারইয়াম বলেন, হে বনি ইসরাইলের লোকেরা আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি। আমি হলাম আমার পূর্বের তাওরাতের সত্যতা প্রমাণকারী, আমার পরে একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি তিনি হলেন আহমাদ।( সূরা সফ:৬) 

৩/ ত্ব-হা : রাসূল সা. এর একটি নাম। ত্ব-হা( হে নবী) আমি কুরআন এজন্য নাজিল করিনি তুমি এর দ্বারা কষ্টে পড়বে।+ সূরা ত্ব-হা:১-২)

৪/ ইয়াসিন : রাসূল সা. -এর অপর  একটি নাম। ইয়াসিন( হে নবী) ,জ্ঞানগর্ভ কোরআনের শপথ। তুমি অবশ্যই রাসূলদের একজন। ( সূরা ইয়াসিন : ১-৩)

৫/ মুযাম্মিল : অর্থ- ব্স্ত্র আচ্ছাদনকারী। রাসুল সা. কে ডাকা হচ্ছে - হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী ( মুহাম্মাদ) , রাতের কিয়দংশ বাদে সালাতের জন্য উঠো দাঁড়াও। ( সুরা মুযাম্মিল: ১-২)

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম